Breaking

Post Top Ad

Sunday, March 7, 2021

পুরুলিয়ায় কুড়মালি ভাষার সার্টিফিকেট কোর্সের শুভারম্ভ




পুরুলিয়ায় কুড়মালি ভাষার সার্টিফিকেট কোর্সের শুভারম্ভ


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া 



বেশ জাঁকজমক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘পশ্চিমবঙ্গ কুড়মালি অকাদেমী’ এর উদ্যোগে পুরুলিয়া ফরেস্ট মোড় মণিপুর পদ্মলোচন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কুড়মালি ভাষার বিস্তার ও প্রসারে বেসরকারিভাবে সিলেবাসভিত্তিক পঠন পাঠনের শুভারম্ভ হল। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ভাষা ও নৃ-তাত্বিক গবেষক ড. অরূপ মজুমদার বলেন- ‘কোন একটি ভাষা যদি হারিয়ে যায় তবে সেই জনগোষ্ঠির সংস্কৃতিও সাথে সাথে হারিয়ে যায়। এর ফলে নির্দিষ্ট জাতির অস্তিত্বটাই বিলুপ্ত হয়ে যায়। তাই জাতিসত্তাকে টিকিয়ে রাখতে হলে ভাষাকে টিকিয়ে রাখতেই হবে এবং ভাষার সংরক্ষণ, প্রসার ও প্রচারের প্রাথমিক দায়িত্ব জাতিকেই নিতে হবে’।



এই প্রেক্ষাপটেই ড. মজুমদার সম্পাদিত ‘কুড়মালি রচিত’ বইটি অনুষ্ঠানে বিতরণ করা হয় এবং বইটি কুড়মালি সমাজের মাতৃভাষায় রচিত বলে কুড়মি ভাষাভাষীদের মধ্যে সহজেই তা গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে।বিশেষত ড. নবকুমার দুয়ারি(নৃ-বিজ্ঞানী, এন্থ্রোপোলোজিক্যাল সার্ভে অফ ইণ্ডিয়া) ব্যাপকভাবে বইটির ভূমিকায় জাতির ভাষার গুরুত্বকে তুলে ধরেছেন। তাই অতিসহজেই বইটি কুড়মালি ভাষা শিক্ষার্থীদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠে। ‘কুড়মালি ভাষা’র পঠনপাঠন অনুষ্ঠানে আজ প্রায় ৫০জন উৎসাহি শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। ধানবাদ কোর্টের বিশিষ্ট উকিল কনক মাহাত- কুড়মালি ভাষার ব্যাপ্তি এবং কুড়মালিভাষার সংরক্ষণ বিষয়ে আলোকপাত করেন। 



আজকের অনুষ্ঠানের কুড়মালি ভাষা নিয়ে যে সার্টিফিকেট কোর্সটি চালু হল, সেটিকে একাদেমীর প্রতিষ্ঠাতা সম্মানীয় পদ্মলোচন মাহাতো’র নামে ‘পদদঅ লোচন মাহাত কুড়মালি সিখনইত আখড়া’ প্রতিষ্ঠানরূপে অভিহিত করা হয়েছে। কুড়মালি ভাষায় রচিত যে বিষয়গুলি সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সেগুলি হল- ‘কুড়মালি ব্যাকরণ’(ভাঁউঅর) ‘কুড়মালি সংস্কৃতি’ (কুড়মালি চারি), কুড়মালি সংস্কৃতির বিশ্লেষণ (কুড়মালি চারিক খদিনাদি) ‘কুড়মালি লোকগীত’ (কুড়মালি পুরসেমি গীত) এবং সহজ সরল কুড়মালি ভাষায় রচিত গদ্য পদ্য ও প্রবন্ধ। গদ্য পদ্য প্রবন্ধের ক্ষেত্রে ড. মজুমদার সম্পাদিত বইটি কুড়মালি সমাজে বিশেষ প্রধান্য পাবে বলে আজকের অনুষ্ঠানের সকলের অভিমত। এই প্রসঙ্গেই আলোকপাত করতে গিয়ে কুড়মালি সাহিত্যিক শম্ভুনাথ বঁসরিআর এবং শক্তিপদ মাহাত বইটির চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। 




আজকের এই মহতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একাদেমির সম্পাদক ছাড়াও আদিবাসী কুড়মি সমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাননীয় শশাঙ্ক শেখর মাহাত, চড়কু মাহাত, প্রভাস রঞ্জন মাহাত সহ বিশিষ্টব্যক্তিবর্গ। 



একই দিনে বিশিষ্ট কুড়মি শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক নৃপেন মাহাত, অশ্বিনী মাহাতদের হাতে ‘কুড়মালি’ রচিত বইটি তুলে দেওয়া হয় এবং তাঁরাও বইটির গুরুত্ব অনুধাবন করেন এবং নৃপেন মাহাত বলেন- ‘ভাষা শিক্ষার জন্য ড. মজুমদার সম্পাদিত বইটি উপযুক্ত কাঠামো নিয়ে গড়ে উঠেছে। নিজেদের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ভাষা ও সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার গুরুত্ব নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করেন সম্মানীয় অশ্বিনী মাহাতো। 

1 comment:

Post Top Ad

Your Ad Spot

Pages