Latest Bengali News Portal

Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

Sunday, January 10, 2021

যোগ্য টেট পরীক্ষার্থীদেরকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে রাজ্য সরকার

যোগ্য টেট পরীক্ষার্থীদেরকে ন্যায্য  অধিকার  থেকে বঞ্চিত করেছে রাজ্য সরকার 

বটু কৃষ্ণ হালদার



শিক্ষা হলো জাতির মেরুদন্ড।শিক্ষিত যুবকরা হলো দেশের ভবিষ্যৎ।আর শিক্ষিত জাতি একটি উন্নত দেশ গড়ার কারিগর হয়ে ওঠে। একটি দেশ উন্নত ও প্রগতিশীল হয়ে উঠবে এটা আমরা সবাই চাই। সেই দেশে শিক্ষিত বেকার যুবকরা চাকরি করবে এটাই সত্য।কিন্তু আমাদের দেশের পুরান তো উল্টো কথা বলছে।কারণ আমাদের দেশে দুই টি বিপরীত মুখী বৈচিত্র দেখা যায়,শিক্ষিত বেকার রা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে,অবসাদে আত্ম হত্যা করছে, নয় তো হাতে মদের গ্লাস, পিস্তল তুলে নিয়ে সমাজ বিরোধী তে পরিণত হচ্ছে।খুব সস্তায় শিক্ষিত বেকার দের জীবন বিকিয়ে যাচ্ছে অল্প বেতনের চাকরি গুলো করে।আবার পাড়ার ক্লাব গুলো তে টাকা দেওয়ার রীতি চালু হয়েছে। সামাজিক উদ্দেশে ক্লাব গুলো তৈরি হলে ও আজকাল সেখানে বসে মদের আসর আর জুয়ার ঠেক। এই ক্লাব গুলো তে শিক্ষিত বেকার ছেলে রা যায় আড্ডা মারতে। ক্লাবে অনুদানের টাকায় চলে দেদার ফুর্তি। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে এইভাবে শিক্ষিত দের জীবন কে নষ্ট করে দেবার পুরো পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন।কারণ মেধাবী ছেলে কে পাড়ার লোক বলত এর মত ছেলে আর একটা নেই, পার যদি ওর মত তৈরি হও। সেই ছেলে যখন আত্মগ্লানিতে ভুগতে ভুগতে সমাজবিরোধী গুন্ডা য় পরিণত হয়,সেই পাড়ার লোক তাকে দেখে এড়িয়ে যায়।তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে রাজ্যেও শিক্ষিত ও বেকার ও পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে যাবার কারণ হলো এই রাজ্যে বিদেশি ও বাহিরা গত দে় র এই রাজ্যে মেলা বসিয়েছে। যদি বলা হয় বাহিরা গত দে় র সঙ্গে শিক্ষিত বেকারের কি সম্পর্ক, তাহলে বলা যেতে পারে আপনি যদি বাড়িয়ে বিদেশি কুকুর পোষেন তাহলে তার খাবার খরচ আপনাকে জোগাতে হয়। থাকার জায়গা ও দিয়ে হয়। কিন্তু কুকুরের থেকে কোন আয় হয় না। আপনার আয়ের এক অংশ  কুকুরের জন্য বরাদ্দ করেছেন শুধু মাত্র আপনার বাড়ির সৌন্দর্য রক্ষা করার জন্য।সেই কুকুর মাঝে মাঝে আপনার হয়ে ঘেউ ঘেউ করে। ঠিক তেমনি রাজনীতির স্বার্থে এক শ্রেণীর রাজনৈতিক দল গুলো এই রাজ্যে বহিরাগতদের ভিড় বাড়িয়েছে। আর তারা রাজ্যে র মানুষের খাবারে থাবা বসাচ্ছে। হাতে পায়ে ধরে চাকরি জোগাড় করে নিচ্ছে,খাজনা না দিয়ে বসবাস করছে।আর খাজনার বোঝা চাপানো হচ্ছে রাজ্য বাসির উপর। শুধু তাই নয় সরকারি চাকরিতে ও ভাগ বসিয়েছে। এর পর বলির খাঁড়া টা কার ঘাড়ে নেমে আসবে? এক কথায় রাজ্য বাসির খাজনার টাকায় চলছে মহাভুরি ভোজ। তবে শুধু বহিরা গতদের দোষ দিতে লাভ নেই,কারণ এই পশ্চিম বাংলা একমাত্র রাজ্য যেখানে ভূমি পুত্রদের জন্য কোন সংরক্ষণ নেই। এই কারণে বাঙালি পশ্চিম বাংলা ছাড়া আর কোথাও বিশেষ সুবিধা করতে পারে না। তাই অন্যান্য রাজ্যের মানুষ বাংলায় এসে চাকরি করে,এমনকি কিন্তু বাঙালি অন্য রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করে।পার্থক্য এটাই।


এ সবের পরে ও পশ্চিম বাংলার জনগণ স্বপ্ন দেখতে ভুলে যায় নি।হয় তো চাষী,দিন মজুর, খেটে খাওয়া মানুষের সন্তান রা একদিন হয় তো ডাক্তার,উকিল, মাস্টার, ব্যারিস্টার,অফিসার হবে। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে লাল ঝান্ডা বাংলা দখল করে। সাধারণ জনগণ ছিল তার মূল কান্ডারী। কিন্তু ধীরে ধীরে বাংলার মানুষের চোখ দিয়ে কালো কাপড় সরে যায়।হিসাব জলের মত পরিস্কার হয়ে যায়। শিক্ষিত বেকার দের মাত্রা দিন দিন বাড়তে থাকে। এক শ্রেণীর পার্টির অশিক্ষিত ঝান্ডা ধারী ক্যাডার রা চাকরি পায়।যারা বর্তমানে সরকারি অফিস গুলোর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার উপর সিপিআইএম এর সময়ে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৫৮ হাজার কল কারখানা বন্ধ হয়েছে। কর্মচারী ও তাদের পরিবার রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে। বিলাস বহুল জীবন যাত্রা বেড়েছিল উনিয়ন গুলোর নেতা মন্ত্রী দের। অথচ যারা রোজ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দুই বেলা দুই মুঠো অন্ন জোগাড় করে তারাই রাজনীতির বলি হয়। তবে এই আমলে স্কুল সার্ভিস কমিশন কিছু টা আশার আলো দেখিয়ে ছিল।


এর পর বাংলার জনগণ আর ভরসা রাখতে পারেনি সিপিআইএম এর উপর।স্লোগান ওঠে পরিবর্তনের। কিন্তু যাদের বাংলা দখল করত


 সাহায্য করেছিল জনগণ সেই তৃণ মূল কংগ্রেসের লড়াই টা ছিল কারখানা বন্ধ করার।অথচ আমরা জানি এই বাংলার বুকে একটা কলকারখানা কতটা জরুরি ছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম ধাপ ছিল শিক্ষিত বেকার দের মাজা ভেঙে দেওয়া। যেটা সিপিআইএম এর আমলে হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসে কারখানা বন্ধ করে তার উপর সিলমোহর দিয়েছিল। কারখানা বন্ধের লড়াই টা যে আসলে বাংলা তথা সিঙ্গুর বাসির কাছে চরম ভুল ছিল তা আজ হা পড়ে হার পড়ে টের পাচ্ছে সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের জনগণ।এক্ষেত্রে প্রশ্ন আসে স্বাভাবিক ভাবে সাধারণ জনগণ কারখানা বন্ধ করার জন্য আন্দোলনকে সমর্থন করে নিজেদের সন্তান দের ভবিষ্যতের সাথেই আপোষ করার সাহস কিভাবে পেল?এ ক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার কোন নেতা মন্ত্রী কিন্তু নিজেদের পরিবারের ভবিষ্যতের সাথেই কোন আপোষ করেন না। দেখুন সিঙ্গুর কারখানা বন্ধের অন্য তম কান্ডারী শুভেন্দু অধিকারী বুঝে গেছেন, তাই জনগণ তাদের হিসেব বুঝে নেবার আগে তিনি জার্সি টা বদলে নিলেন।


বর্তমান রাজ্য সরকারের আমলে স্কুল সার্ভিস কমিশন প্রায় বন্ধের মুখে।অথচ সর্ব ধর্ম সমন্বয় এর দেশে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন গড়ে তোলা হয়েছে। এক বিশেষ সম্প্রদায় কে সুবিধা দিয়ে চলেছে।আমরা শুধু নীরব দর্শক মাত্র।হিন্দু, ক্রিস্টিয়ান,শিখ, ধর্মের মানুষ রা কি দোষ করল? যদি মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন থাকে তাহলে প্রত্যেক ধর্মের জন্য আলাদা  কমিশন নেই কেন? এক্ষেত্রে যদি বলা হয় যে তাদের কে সামাজিক স্তরে স্বীকৃত দেবার জন্য এই ব্যাবস্থা, তাহলে সরকারে উচিত উলাঙ্গ জারোয়াদের কথা আগে ভাবা দরকার। কারণ এই যুগে এসে ও এই ভারতে উলঙ্গ মানুষ দেখতে পাওয়া বিশ্বের বুকে ভারতের লজ্জা?এমন কি স্বচ্ছ পাবলিক সার্ভিস কমিশনে ও তার দুর্নীতি ধরা পড়েছে।শুধু তাই নয় এই সরকারের চরম এক দুর্নীতি হলো টেট দুর্নীতি। যোগ্য টেট পরীক্ষার্থীদের সাথে সরকার বেইমানি করেছে। চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা রাখেনি। কার্যত শিক্ষিত বেকারদের হুমকির মুখে পড়ে রাজ্য সরকার ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে আবেদন পত্র জমা হতে শুরু করে।২০১৫ সালে সেই পরীক্ষা নেয়া হয়েছিল। ২০১৬ সালে পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ২০১৮ উক্তির্ণ টেট  পরীক্ষার্থীদের ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন এর জন্য ডাকতে আরম্ভ করে। ২০১৯ ইন্টারভিউ গ্রহণ ও মেরিট লিস্ট প্রকাশ করে সরকার। কিন্তু এর মধ্যেই চলেছে খেলা। মাঝখানে ভলগা গঙ্গার জল বয়ে গেছে, কিন্তু যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অথচ ইতিমধ্যে বহু প্রার্থী নিয়োগ হয়েছে যাদের নাম কোন লিস্টে ছিলনা। তার অন্যতম প্রমাণ হলো নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোসের মতো মহান আদর্শবাদী নেতার তৈরি সংগঠন ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে এসে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানকারী বিধায়ক পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী। ওয়েটিং লিস্টে নাম থাকা সত্ত্বেও নিঃশব্দে শিক্ষিকা পদে যোগদান করেন তিনি। । ভাবতে অবাক লাগে না, লজ্জা লাগে। বর্তমান সময়ের রাজনীতি করলেই চাকরি পাওয়া যায়। শিক্ষার কোন মূল্য নেই। যোগ্য বঞ্চিত পরীক্ষার্থীরা রোদ-ঝড়-বৃষ্টিতে তাদের ন্যায্য পাওনা দাবিতে অনশন ও আন্দোলন করে চলেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় অনেকেই এই আন্দোলন কে সামনে থেকে পরিচালিত করেছিলেন তারা অনেকেই সুবিধা পেয়ের ইতিমধ্যে দল বদল করে নিয়েছে। বলতে গেলে এটাকে দল বদল বলে না, বলা হয় চরিত্র বদল।আর বঞ্চিত টেট পরীক্ষার্থীরা সীতার অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে চলেছে। ইতিমধ্যেই অনেক পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা করেছে। অনেকেই আবার আন্দোলন চলাকালীন হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন।তাদের উপর চলেছে পুলিশের অত্যাচার। কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে আজ মানবতা? তাহলে আমাদের সন্তানদের এবার থেকে এটাই শিক্ষা দিয়ে যেতে হবে যে পড়াশোনা করলে চাকরি পাওয়া যায় না, অশিক্ষিত হলেও পার্টির ঝান্ডা ধরলে চাকরি পাওয়া যায়।



বর্তমানে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতীয় জনতা পার্টি তাদের গুটি সাজিয়ে নিচ্ছেন। আশ্বস্ত করেছেন ক্ষমতায় এলে তারা অবশ্যই বঞ্চিত বেকার যুবকদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করবে। ইতিমধ্যেই ভারতীয় জনতা পার্টি ৭৫ লক্ষ চাকরির জন্য জব কার্ডের ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু  এই চাকরি কাদের কিভাবে দেওয়া হবে সেটা বিষয় টা পরিষ্কার নয়।কারণ চাকরি কিন্তু রেশনের মাল নয়। সাধারণ জনগণের ভাবনার সঙ্গে খেলা করাটাও কিন্তু এক ধরনের অপরাধ।সত্যিই কি ভারতীয় জনতা পার্টি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারবে?কারণ সিপিএমের আমল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সরকার শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে। প্রতিশ্রুতি পালন করতে  ব্যর্থ সরকার দুই সরকার।আবার ভারতীয় জনতা পার্টি এই মুহূর্তে তারা মতুয়াদের খুশি করতে ব্যস্ত। তাই আগামী দিনে তারা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বাসীর জন্য কতটা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারবে তার জন্য আমাদের আরো কয়েকটা মাস অপেক্ষা করতে হবে।


বটু কৃষ্ণ হালদার, কবর ডাঙা,কলকাতা


(লেখার দায় সম্পূর্ণ লেখকের, সংবাদ কতৃপক্ষ কোন ভাবে দায় নেবে না। )


No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Your Ad Spot

Pages