Breaking

Post Top Ad

Thursday, March 11, 2021

ভোট কর্মীদের প্রতি নির্বাচন কমিশনের অসম্মানজনক আচরণের প্রতিবাদ সহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন

ভোট কর্মীদের প্রতি নির্বাচন কমিশনের অসম্মানজনক আচরণের প্রতিবাদ সহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন



আজ কলকাতায় ভোট কর্মীদের প্রতি নির্বাচন কমিশনের অসম্মানজনক আচরণের প্রতিবাদ সহ বিভিন্ন দাবিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের। 




শারীরিক প্রতিবন্ধী, ক্যান্সার, গুরুতর অসুস্থ, সম্পূর্ণ অন্ধ, কিংবা সদ্যোজাত শিশুর মা সহ বিভিন্ন ব্যক্তিদের ভোট কর্মীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আবেদন জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। বরং চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দিয়ে শোকজ নোটিশ ধরানো হচ্ছে। ৩০% বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি করা সত্ত্বেও করোনা ভাইরাসের অজুহাতে ভোটের সময় সীমা সন্ধ্যা ৬:৩০ টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। টানা প্রায় দুদিন কাজ করার পর নির্বাচনের পরের দিন ভোট কর্মীদের জন্য অন্য রাজ্যে অন ডিউটি ব্যবস্থা থাকলেও আমাদের রাজ্যে তা নেই। এছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভোট কর্মীদের প্রতি নির্বাচন কমিশনের অসম্মানজনক আচরণের প্রতিবাদে, সুনিশ্চিত নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দাবিতে আজ ১১ ই মার্চ, বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ এবং তারপর অ্যাডিশনাল সিইও বিজিত কুমার ধর-এর কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়।




রাজ্য সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, পশ্চিম মেদিনীপুরের চকমকরামপুর হাইস্কুলের এক শিক্ষিকাকে মেটারনিটি লিভ থাকাকালীন জেলার নির্বাচন কমিশন তাঁকে ভোট কর্মী হিসেবে অ্যাপোয়েন্টমেন্ট লেটার দিয়েছে। যদিও ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দাবি তিনি pp2 পূরণ করার সময় জানিয়েছিলেন উনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। তা সত্ত্বেও তাঁকে এই ডিউটি দেওয়া হয়। স্বাভাবিকভাবেই ওই মহিলা শিক্ষিকা ট্রেনিংয়ে নাম কাটানোর জন্য জেলার পিপি সেলে গেলে তাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তিনি ট্রেনিংয়ে না যাওয়ার জন্য ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কমিশন চিঠি দিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে, কেন তিনি ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি একশন নিচ্ছেন না এবং নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।


এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে কমিশনকে তা প্রত্যাহার করতে হবে বলে ঐক্য মঞ্চের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে।




প্রতিনিধি দলে ছিলেন শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সভাপতি বিশ্বজিৎ মিত্র, রাজ্য সম্পাদক কিংকর অধিকারী, সম্পাদক মন্ডলীর অন্যতম সদস্য অনামিকা চক্রবর্তী, চন্দন গরাই প্রমুখ।




সম্পাদক মন্ডলীর অন্যতম সদস্য অনামিকা চক্রবর্তী বলেন, সমস্ত ভোটকর্মীর সুনিশ্চিত নিরাপত্তার বিষয়ে একটি প্রেস নোট জারি, শারীরিক প্রতিবন্ধী, ক্যান্সার, গুরুতর অসুস্থ, সম্পূর্ণ অন্ধ, কিংবা সদ্যোজাত শিশুর মায়েদের ভোট কর্মীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং হয়রানি বন্ধ, সম্মানজনক শোকজের ভাষা প্রত্যাহার, ভোটের পরদিন ভোট কর্মীদের অন ডিউটি, রেমুনেরেশন বৃদ্ধি, ভোট কর্মীদের দিয়ে নয়, প্রত্যেকটি বুথে ভোটিং মেটিরিয়ালস পৌঁছে দেওয়া এবং নেওয়ার দায়িত্ব সেক্টর অফিসের, ভোটের সময়সীমা বৃদ্ধি প্রত্যাহার, ভোটের ট্রেনিং করে ফেরার সময় ভোট কর্মী মনোজ ঘোষের দুর্ঘটনায় মৃত্যুর জন্য ক্ষতিপূরণ সহ বিভিন্ন দাবিগুলি যুক্তি সহ তুলে ধরলে তিনি প্রতিটি বিষয় শুনেছেন এবং কথা দিয়েছেন এই বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। তিনি জানিয়েছেন, ভোট কর্মীদের ট্রেনিং-এর সময় লাঞ্চের জন্য বরাদ্দ অর্থ একাউন্টে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




ঐক্য মঞ্চের রাজ্য সভাপতি বিশ্বজিৎ মিত্র বলেন, আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলি যদি মেনে নেওয়া না হয় তাহলে আমরা রাজ্য জুড়ে তীব্র আন্দোলনের ডাক দেবো।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Your Ad Spot

Pages