Breaking

Post Top Ad

Tuesday, November 22, 2022

Krishnagar College : কৃষ্ণনগর কলেজের প্রাক্তনীদের বার্ষিক সাধারণ সভা

Krishnagar College : কৃষ্ণনগর কলেজের প্রাক্তনীদের বার্ষিক সাধারণ সভা


কৃষ্ণনগর কলেজের প্রাক্তনীদের বার্ষিক সাধারণ সভা



দীপাঞ্জন দে: নদিয়া জেলার সর্বপ্রথম উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হল কৃষ্ণনগর কলেজ (যার বর্তমান নাম কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজ)। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় লর্ড হার্ডিঞ্জ-এর আমলে ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১লা জানুয়ারি। নদিয়া-রাজ শ্রীশচন্দ্র রায় এবং কাশিমবাজারের রানী স্বর্ণময়ী শতাধিক বিঘা জমি দান করলে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে কৃষ্ণনগর কলেজের বর্তমান প্রাসাদোপম ভবনটি নির্মিত হয়। কৃষ্ণনগর কলেজের বয়স ইতিমধ্যে ১৭৫ বছরের গণ্ডি অতিক্রম করেছে। নদিয়া জেলা তথা বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থায় কৃষ্ণনগর কলেজের ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণ করতে হয়। একাধিক প্রথিতযশা ব্যক্তি কৃষ্ণনগর কলেজে পড়াশোনা করেছেন। কবি, সাহিত্যিক থেকে শুরু করে বিশিষ্ট তাত্ত্বিক, স্বাধীনতা সংগ্রামী, ঐতিহাসিক, নাট্যকারেরা ঐতিহ্যমন্ডিত কৃষ্ণনগর কলেজে পাঠ গ্রহণ করেছিলেন।




১৩ নভেম্বর ২০২২ (রবিবার) এই কৃষ্ণনগর কলেজে অনুষ্ঠিত হল কলেজ প্রাক্তনীদের বার্ষিক সাধারণ সভা। ২০২০ সালের পর থেকে করোনা অতিমারির কারণে প্রাক্তনীদের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হতে পেরেছিল না। প্রাক্তনী সংসদের শেষ সভাটি হয়েছিল ঠিক করোনা অতিমারি আবির্ভাবের আগে আগে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সেটি ছিল প্রাক্তনী সংসদের দ্বাদশ সম্মেলন। তারপর দীর্ঘসময়ের বিরতির পর ২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হল কৃষ্ণনগর কলেজ প্রাক্তনী সংসদের ত্রয়োদশ সাধারণ সভা। এটি তাদের কাছে একটি পুনর্মিলন উৎসব। কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজ অ্যালাম্নাই অ্যাসোসিয়েশনের ত্রয়োদশ বার্ষিক সম্মেলনে সারাদিনব্যাপী একাধিক কার্যক্রম ছিল। পতাকা উত্তোলন এবং কলেজ উদ্যানে স্থাপিত দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের মূর্তিতে মাল্য নিবেদনের মধ্যে দিয়ে সাধারণ সভার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।



কৃষ্ণনগর কলেজের প্রাক্তনীদের বার্ষিক সাধারণ সভা


অতঃপর অ্যালাম্নাই অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনের রীতি মেনে দ্বিজেন্দ্র মূর্তির সম্মুখে দাঁড়িয়ে প্রাক্তনীরা সমবেত কন্ঠে ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ গানটি পরিবেশন করেন। এরপর সভা এগোয় কলেজের মূলভবনের ঐতিহাসিক সভাকক্ষে। কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজ অ্যালাম্নাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শঙ্করেশ্বর দত্ত উদ্বোধনী ভাষণ রাখেন। তারপর সম্পাদকীয় প্রতিবেদন পাঠ করেন প্রাক্তনী সংসদের সম্পাদক খগেন্দ্রকুমার দত্ত। সভাগৃহে উপস্থিত প্রাক্তনীরা সম্পাদকের উপস্থাপিত প্রতিবেদনটির প্রতি হাত তুলে নিজেদের সমর্থন জানান। এরপর সেটি গৃহীত হয়। এরপর প্রাক্তনীদের ত্রয়োদশ সম্মেলনে উপস্থিত সদস্যরা সম্পাদকীয় প্রতিবেদনের উপর বিস্তারিত আলোচনা করেন। কলেজের উন্নতিতে আগামীদিনের বিভিন্ন পরিকল্পনা বিষয়ে সভায় একাধিক প্রস্তাব আসে। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন— গৌতম চট্টোপাধ্যায়, অনন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণীপ্রসাদ চক্রবর্তী, মিতা দে, শ্রেয়া সাহা, দীপাঞ্জন দে প্রমুখরা।




সভামঞ্চে উপস্থিত সম্মানীয় ব্যক্তিবর্গও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন— সভাপতি শঙ্করেশ্বর দত্ত, কানাইলাল বিশ্বাস, শিবনাথ চৌধুরী, সুধাকর বিশ্বাস, অর্চনা ঘোষ সরকার প্রমুখরা। কলেজের পক্ষে হিতকর একাধিক প্রস্তাব প্রাক্তনী সংসদের আলোচনা থেকে উঠে আসে। এরপর সংসদের কোষাধ্যক্ষ দীপঙ্কর দাস বিগত কমিটির আয়-ব্যয়ের হিসাব পেশ করেন। সেটিও প্রত্যেক সদস্যের সমর্থনে গৃহীত হয়। অতঃপর সভাপতি মধ্যাহ্ন ভোজনের ঘোষণা করেন। মধ্যাহ্ন ভোজনের পর সভার দ্বিতীয় পর্বে ছিল আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এদিনের সম্মেলনে আগামী দুই বছরের জন্য কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজ অ্যালাম্নাই অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠিত হয়। পুরনো কমিটিতে সামান্য রদবদল করে প্রাক্তনী সংসদের এই নতুন কমিটি গঠিত হয়। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আগামী দিনেও আশাকরি প্রাক্তনী সংসদ এগিয়ে চলবে এবং কলেজের উন্নতিতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।




লেখক: অধ্যাপক, চাপড়া বাঙ্গালঝি মহাবিদ্যালয়, নদিয়া।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Your Ad Spot

Pages